ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ই জুন ২০২৪, ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩১


সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে কি না জানাল আবহাওয়া অফিস


প্রকাশিত:
১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:৪৬

আপডেট:
১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:০৮

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ মঙ্গলবার বিকেলের পর সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রগুলো বলছে, এটি আজ বুধবার নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর তা গভীর নিম্নচাপ এমনকি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে।

গত ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে প্রাণহানি এবং বসতবাড়ি ও ফসলও নষ্ট হয়। এরপর আবার নতুন আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার কথা জানালেন আবহাওয়াবিদেরা।

গতকার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো.আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছিল। আজ এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে সম্ভাবনা নেই, তা–ও বলা যাবে না।

অক্টোবর ও নভেম্বর ‘ঘূর্ণিঝড়প্রবণ’ মাস হিসেবে পরিচিত। দেশে সাধারণত মৌসুমি বায়ু আসার আগে এবং চলে যাওয়ার পর ঘূর্ণিঝড় হয়। মৌসুমি বায়ু আসার আগে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঘূর্ণিঝড় হয়। আবার চলে যাওয়ার পর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ১৮৯১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৬২০টি ঘূর্ণিঝড় ও অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। আর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে ৯৪১টি। ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অক্টোবর মাসে হয়েছে ২৫৫টি, নভেম্বরে ২১৯ ও ডিসেম্বরে ১০৫টি। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অক্টোবরে ৪২টি, নভেম্বরে ৭৪ ও ডিসেম্বরে ২৮টি হয়েছে।

অতীতের এসব রেকর্ড স্মরণ করেই আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, এই নভেম্বর মাসে ভয়াবহ সব ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড আছে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারান। এসব বিষয় মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই এ সময় ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার সে জন্য প্রস্তুতিও রাখা দরকার।

গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়ার আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।  সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, এখন দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগরে থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মিধিলি।’ এটি মালদ্বীপের দেওয়া নাম। তবে এটি বাংলাদেশে আঘাত হানবে কি না, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। এটি ভারতের ওডিশাতেও আঘাত হানতে পারে। আবার বাংলাদেশ বা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও আঘাত হানার আশঙ্কা আছে। আগামীকাল এর গতিবিধি নিয়ে পরিষ্কার করে বলা যাবে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top