ঢাকা বুধবার, ২৪শে জুলাই ২০২৪, ১০ই শ্রাবণ ১৪৩১

সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র সিলেটের আন্দু লেক


প্রকাশিত:
২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ২১:৫৯

আপডেট:
২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ২২:০০

আন্দু লেক

 

মোশতাক রাইহান, পরিবেশ টেলিভিশন

অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমির নাম আন্দু লেক। প্রাকৃতির অকৃপণ রূপ-লাবণ্যে ঘেরা এই আন্দু লেক পর্যটন শিল্পে এনে দিতে পারে অনেক সম্ভাবনাময় কিছু। সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু শাপলা। তাই তো হাজার ফুলের ভিড়ে জাতীয় ফুলের খেতাবটা নিজের করে নিয়েছে। বলছিলাম শাপলা ফুলের কথা, বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। সেই ফুল যদি কোনো জলাশয়ে ভর্তি থাকে, তাহলে সেই জলাশয় দেখতে কেমন হতে পারে- একবার চিন্তা করে দেখুন। কল্পনার রাজ্যে এতক্ষণে নিশ্চয়ই ভর করেছে কোনো শাপলা বিলের কথা, যেখানে হয়তো ঘুরতে গিয়েছিলেন। আর যদি না ঘুরে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই কল্পনায় ছবি আঁকার চেষ্টা করছেন, কেমন হতে পারে শাপলা বিল!

স্বচ্চ পানি আর লাল শাপলার সুবিশাল রাজ্য। সবার ইতিবাচক মন্তব্য আর আর বাড়ির পাশে হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিলাম সেখানেই যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে জুলাই গ্রাম।

সিলেট -জকিগঞ্জ রোডের জুলাই নামক স্থান থেকে লেক পর্যন্ত একট সচ্ছ পানির খাল রয়েছে।লেকের চার পাশে ছোট ছোট গ্রাম আছে। শীত মৌসুমে অনেক প্রকার দেশী ও অতিথি পাখির দেখা মেলে এই লেকে। ডিবির হাওয়ের চেয়ে শতগুণ সুন্দর শাপলা ফুটে এই লেকে। তখন ছোট ছোট নৌকায় করে উপভোগ করা যায় লেকে ফুটে উটা শাপলার সমারোহ। লেকে প্রায় শত প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। সিলেটে অনেকটা ভাইরাল পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে আন্দু লেক।

সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ ইউপি ও ৩নং দিঘীর পার পূর্ব ইউপি এবং ৪নং সাতঁবাক ইউপি মধ্যে স্হানল এই আন্দু লেকটির অবস্থান। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান স্থানটিতে যেমন উপভোগ করা যায় প্রকৃতির মোহনীয় দৃশ্য। আর অন্যদিকে লেকের মাঝে ছড়িয়ে থাকা স্বচ্ছ পানির সমারোহ।

এ লেকে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম বলে এখানে নানা প্রজাতির পাখির নির্বিঘ্ন বিচরণ চোখে পড়ে। লেকটি ১৯৪৭ সালের পূর্বে এটি সুরমা নদী ছিলো। প্রায় ৬ কিলোমিটার লেকটি যেখানে শুরু হয়েছিল তার এক কিলোমিটার বিপরীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। বৃটিশ সরকার এই এলাকাকে নদীভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং নদীর গতিপথ সোজা করার জন্য লেকটির দু পাশে মাটি ভরাট করে সুরমা নদী থেকে এ অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর এঅংশের নাম হয় পুরাতন সুরমা বা আন্দু গাঙ্গ। কানাইঘাটে অবস্থিত এই লেকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে লেকের পানি সব মৌসুমে সচ্ছ থাকে। লেকের ধারে গড়ে উঠেছে দ্বীপের মতো ছোট ছোট দুটি চর।

প্রকৃতির এই লীলায় কানাইঘাট তথা সিলেটের কর্মব্যস্ত মানুষেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু বিনোদনের জন্য ছুটে আসতে পারেন কানাইঘাটের এই আন্দু লেকে। লেকের ও লেকের পাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করবে। লেকের এই বিশালতায় পর্যটকরা পাবেন অন্যরকম অনুভূতি। সংরক্ষিত এই লেকটি টুরিজম হিসেবে গড়ে তুলতে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগে লেকের পাশে কয়েকটি গোলঘরসহ ৬০ ফুট মিটার উচ্চতার একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা সময়ের দাবি।

আন্দু নদী এক সময় সিলেটের সুরমা নদীর শাখা ছিল। উৎস কানাইঘাট উপজেলার জয়পুরে। সেখান থেকে ছুটে হাওরে মিশেছে। উৎস মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বদ্ধ জলাশয়ে রূপ নেয় এক সময়ের খরস্রোতা নদী আন্দু। স্থানীয়দের কাছে এখন এটি আন্দু গাঙ বা আন্দু লেক নামে পরিচিত।
আন্দু লেক এখন লাল শাপলার দখলে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লেকে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। শিশির ভেজা ভোরে পাপড়ি মেলা লাল শাপলা মুগ্ধ করছে পর্যটকদের। লেকের স্বচ্ছ পানিতে ফুটে ওঠা শাপলার রাজ্য দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে এসে ভীড় করেন পর্যটকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুরমা নদীর শাখা থাকাকালীন কানাইঘাট উপজেলার ১ নম্বর লক্ষীপ্রসাদ, ৩ নম্বর দিঘীর পার পূর্ব ও ৪ নম্বর সাতঁবাক ইউনিয়নকে বিভক্ত করে রেখেছিল নদীটি। পরে এ এলাকাকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে ও নদীর গতিপথ সোজা করতে নদীটির উৎসমুখ ভরাট করে দেয়। এরপর থেকে স্থানীয়দের কাছে এটি পুরাতন সুরমা বা আন্দু গাঙ বলে পরিচিত।

শাপলা

যাতায়াত: সিলেট থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সিলেট জকিগঞ্জ রোডের বাংলা বাজার নামক স্থানে নেমে জনপ্রতি ১০টাকা ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশা করে ভবানিগঞ্জ বাজার যেতে হবে,ভবানিগঞ্জ বাজারের পাশেই অন্দু লেক। অথবা সিলেট জকিগঞ্জ রোডের জুলাইর ব্রীজ বা ধনমাইরমাটি গ্রামের রাস্তায় নেমে হেটে যেতে পারবেন বা সড়কের বাজার নেমে ১০টাকা ভাড়ায় লেগুনা বা সিএনজি অটোরিকশা ধরে লন্তির মাটি স্ট্যান্ডে যেতে হবে,স্ট্যান্ডের পাশেই আন্দু লেক। যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক এখানে অনেক ভালো। লেখালেখি ও প্রচার প্রচারণা মাধ্যমে এটাকে পর্যটন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করা গেলে সিলেটের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো কানাইঘাটের আন্দু লেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে পর্যটকদের কাছে। এবং লেকটি আস্তে-আস্তে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেবে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top