ঢাকা বুধবার, ২৪শে জুলাই ২০২৪, ১০ই শ্রাবণ ১৪৩১

বিলুপ্তির পথে মেরু ভালুক


প্রকাশিত:
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৩১

আপডেট:
২৪ জুলাই ২০২৪ ১৫:২৬


কোনও একটি নির্দিষ্ট প্রাণী বেঁচে থাকে তার বাস্তুতন্ত্রের ওপরে। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হলে সংকট দেখা দেয় খাবারের। বংশবৃদ্ধি ব্যহত হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে নিজেদের অস্তিত্বরক্ষার লড়াইয়ে হার মানতে হয় প্রাণীদের। তেমনই অবস্থায় পড়েছে মেরু ভালুক। গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে দুই মেরুর বরফের পরিমাণ একটু একটু করে কমে আসছে। আর এতেই সংকটের মুখে পড়েছে মেরু ভালুক।

সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন গবেষকরা। 'গ্রিন হাউজ গ্যাস ও মেরু ভালুক' শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৮০ বা ১০০ বছর পরই পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে মেরু ভালুক। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে চলতি শতাব্দীতে এটাই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওই পরিবেশবিদ সিসিলিয়া বিটজ উষ্ণায়নের প্রভাব কীভাবে প্রাণীটির উপর পড়ছে, তা ব্যাখ্যা করেন। শুধু তাই নয়, আগামী ১০০ বছরের কম সময়ের মধ্যে প্রাণীটি অবলুপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিটজের দাবি, বর্তমানে গ্রিন হাউজ গ্যাসের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব সহ্য করতে হচ্ছে মেরু ভালুককে। অধিকাংশ সময়ই আধপেটা খেয়ে থাকছে এই প্রাণী। গত এক দশকে মেরু ভালুকের প্রজনন ক্ষমতা কমেছে ২৩-২৫ শতাংশ।

মেরু ভালুক মাংসাশী প্রাণী। মেরু এলাকার জলজ প্রাণী শিকার করেই বেঁচে থাকে তারা। বিটজ জানিয়েছেন, 'উষ্ণায়নের জেরে সেখানকার বরফের ব্যাপক হারে গলন শুরু হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে মরে যাচ্ছে মাছসহ বরফের নিচে থাকা বহু প্রাণী। এই কারণে ভালুকের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।'

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন মার্কিন অধ্য়াপক। সেখানে গত এক দশকে মেরু ভালুক শাবকের মৃত্যু হার বৃদ্ধির তথ্য সামনে এনেছেন তিনি। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১১-১২তে মেরু ভালুক শাবকের মৃত্যু হার ছিল মাত্র ১.৫ থেকে ২ শতাংশ। বর্তমানে একলাফে যা বেড়ে ৮ থেকে ৯.৩ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। এর মূল কারণ হল খাদ্যাভাব। অপুষ্টিজনিত কারণে জন্মের পর পরই অধিকাংশ মেরু ভালুক শাবকের মৃত্যু হচ্ছে।

কয়েক বছর আগে মেরু ভালুককে বিপন্ন প্রাণী বলে ঘোষণা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারপরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। গবেষকরা জানিয়েছেন, শুধু সরকারিভাবে এই ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি, জীবাশ্ম জ্বালানির পরিমাণ কমানো প্রয়োজন।

 


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top